ডিসেম্বর / ০৮ / ২০২১ ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন

মোহাম্মদ আফজল

নভেম্বর / ২৫ / ২০২১
১২:৩৮ অপরাহ্ন

আপডেট : ডিসেম্বর / ০৮ / ২০২১
০৩:২৯ পূর্বাহ্ন

২৩তম জাতীয় ক্রিকেট লিগ: খুলনাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ঢাকা



25

Shares

বিকেএসপির তিন নাম্বার মাঠে খুলনা বিভাগকে ১৭৯ রানে হারিয়ে আট মৌসুম পর শিরোপা জিতেছে ঢাকা। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থেকে ২৩তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের শেষ খেলতে নামে ঢাকা, সিলেটের বিপক্ষে রংপুর ড্র করাতে খুলনাকে হারিয়েই শিরোপা জয়ের উৎসবে মাতে ঢাকা। খুলনার হারে প্রথম স্তরে টিকে যায় সিলেট। বিকেএসপির চার নাম্বার মাঠে রংপুরের বিপক্ষে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়েই ম্যাচ ড্র করেছে সিলেট। জাতীয় ক্রিকেট লিগে দ্বিতীয় স্তরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ।

বিকেএসপির তিন নাম্বার মাঠে ঢাকার দেওয়া ৩৭৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে তৈবুর রাহমানের স্পিন ঘূর্ণিতে খুলনা গুটিয়ে যায় ১৯৯ রানে। তৈবুর ৪০ রানে শিকার করেন ৫ উইকেট। ৩৭৯ রানে খেলতে নেমে ৭২ রানেই ৬ উইকেট হারায় খুলনা। নাহিদুল ইসলামের ৪০ রানের ইনিংসে কোনো রকম ১৯৯ রান করে খুলনা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান আসে ইমরান উজ জামানের ব্যাট থেকে। ঢাকার হয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন তৈবুর রাহমান। তিন উইকেট পান শুভাগত হোম। এর আগে ১২২ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ঢাকার দুই ওপেনার উদ্বোধনী জুটিতে তুলেন ১৩৯ রান। ব্যক্তিগত ৬১ রানে আবদুল মজিদকে ফিরিয়ে মিঠুন ভাঙেন তাদের জুটি। এরপর মিঠুনের স্পিন ঘূর্ণিতে দ্রুত আরও ৩ উইকেট হারায় ঢাকা। ১৩৯ রান থেকে ১৭৭ তুলতেই নেই ঢাকার চার উইকেট, যেখানে মিঠুনের শিকার ৩ উইকেট।

ইনিংসের ৬০তম চতুর্থ ওভারে শুভাগত হোমকে নিজের চতুর্থ শিকার বানান মিঠুন। তিন ওভার পরে এসে নাদিফ চৌধুরীকে আউট করে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ইনিংসে প্রথম ৫ উইকেট শিকার করেন মিঠুন। ফলে দলীয় ২৪৯ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় ঢাকা। এরপর সুমন খান ও তৈবুর রাহমানেরও উইকেট নেন মিঠুন। ৮ উইকেটে ২৫৬ রান করে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ঢাকা। ঢাকার হয়ে সর্বোচ্চ ৮৭ রান করেন রনি তালুকদার, ৯১ বলে ৬ বাউন্ডারি এবং ৫ ছক্কায় সাজান তার ইনিংস।  এর আগে ঢাকা মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের ৯২ রানের ইনিংসের উপর ভর করে ৩৩৫ রান সংগ্রহ করে। খুলনার হয়ে তিনটি করে উইকেট শিকার করেন আল আমীন হোসাইন ও সৌম্য সরকার।

জবাবে খুলনা প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় ২১৩ রানে। ঢাকার অপ স্পিনার শুভাগত হোম একাই শিকার করেন ৭ উইকেট।  ম্যাচে ১০ উইকেট এবং ৫৪ রান করে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন শুভাগত হোম।

বিকেএসপির চার নাম্বার মাঠে ১৪৭ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে রংপুর চতুর্থ দিনে ৫ উইকেটে ১৯৩ রান সংগ্রহ করে। রংপুরের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন নাসির হোসাইন। এছাড়া আরিফুল হকের ব্যাট থেকে আসে ৫৭ রান। সিলেটের হয়ে সাহানুর শিকার করেন ৩ উইকেট।  এর আগে রংপুরের ৩৯৩ রানের জবাবে সিলেট অমিত হাসান এবং জাকির হাসানের সেঞ্চুরিতে সিলেট নিজেদের প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ করে ৫৪০ রান। যেখানে এই দুই ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে এসেছে ৩০৮ রান। রংপুরের ৩৯৩ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে সিলেট প্রথম উইকেট হারায় ২৮ রানে। ব্যক্তিগত ১৭ রানে আউট হন ওপেনার তৌফিক খান তু্ষার। এরপর তিনে খেলতে নেমে অমিত হাসান আরেক ওপেনার সায়েম আলম রিজভীকে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ৯৫ রানের জুটি। ব্যক্তিগত ৪৯ রানে রিজভী আউট হলে ভাঙে তাদের জুটি। ফলে দলীয় ১২৩ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় সিলেট।

সিলেটের তৃতীয় উইকেট পেতে রংপুরকে অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় ৮৬ ওভার, রংপুর উইকেট না পাওয়ার মূল কৃতিত্ব অবশ্যই সিলেটের দুই ব্যাটসম্যান অমিত হাসান ও জাকির হাসানের। দুজনে মিলে তৃতীয় উইকেটে গড়েন ২৪৩ রানের জুটি, এই জুটি গড়ার পথে দুজনে হাকান শতক। দলীয় ৩৬৬ রানে জাকির হাসান ব্যক্তিগত ১২২ রানে জাহিদ জাভেদ বলে কট এন্ড বোল্ড হলে ভাঙে তাদের জুটি। জাকির হাসান ২৪৮ বলের ১২২ রানের ইনিংসটি সাজান ১৪টি বাউন্ডারিতে। জাকিরের বিদায়ের পরও ক্রিজে ব্যাট হাতে সচল ছিলেন অমিত, নিজের তৃতীয় সেঞ্চুরিকে রুপ দেন ট্রিপল হাফ সেঞ্চুরিতে। এরপর ডাবল সেঞ্চুরি পথে এগুতে থাকেন অমিত। ব্যক্তিগত ১৮৬ রানে আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও সাজঘরে ফিরতে আক্ষেপ নিয়ে। অমিত ৪২২ বলে ১৯টি বাউন্ডারির সাহায্যে করেন ১৮৬ রান। এছাড়া জাকির আলী অনিকের ব্যাট থেকে আসে ৫৮ রান। রংপুরের হয়ে ৩টি উইকেট শিকার রবিউল হক, এছাড়া ২টি করে উইকেট নেন নাসির হোসাইন ও আরিফুল হক। একটি করে উইকেট পেয়েছেন তানভীর হায়দার ও জাহিদ জাভেদ।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ড্র হয়েছে চট্রগ্রাম ও ঢাকা মেট্রোর ম্যাচ। এই ড্রয়ের ফলে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পেয়ে টায়ার-২ চ্যাম্পিয়ন হয় চট্রগ্রাম। ৩২৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ঢাকা মেট্রো ২৩.৩ ওভারে ৪ উইকেটে ৮২ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন জাহিদুজ্জামান। এছাড়া ১৮ রানে অপরাজিত ছিলেন মার্শাল আইয়ুব। চট্রগ্রামের হয়ে তিন উইকেট শিকার করেন হাসান মুরাদ। এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে শাহাদাত হোসেন দিপুর অপরাজিত ১৫৯ রানের ইনিংসে ৩৬০ রান সংগ্রহ করে চট্রগ্রাম। এছাড়া সৈকত আলীর ব্যাট থেকে আসে ৯৫ রান। ঢাকা মেট্রোর হয়ে ৭৬ রানে ৫ উইকেট শিকার করেছেন ইফতেখার সাজ্জাদ এবং দুইটি উইকেট শিকার করেছেন শাহবাজ চৌহান ও আবু হায়দার রনি।

প্রথম ইনিংসে চট্টগ্রাম অল আউট ২২৩ রানে। মাহমুদুল হাসান জয়ের ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৮৭ রান। ঢাকার দুই স্পিনার মো. শরিফুল্লাহ এবং শাহবাজ চৌহান মিলে নেন ৭ উইকেট। শরিফুল্লাহ শিকার করেন ৪টি আর শাহবাজের ঝুলিতে যায় ৩টি উইকেট।

জবাবে ঢাকা মেট্রো আল আমীন জুনিয়রের ফিফটিতে সংগ্রহ করে ২৫৮ রান। চট্টগ্রামের হয়ে তিনটি করে উইকেট শিকার করেন নাবিল সামাদ, নোমান চৌধুরী ও হাসান মুরাদ।  দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫৯ রান করে ম্যাচ সেরা হন চট্টগ্রামের শাহাদাত হোসেন দিপু। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম দুইয়ে ড্র হয়েছে রাজশাহী ও বরিশালের ম্যাচ। প্রথম ব্যাট করতে নেমে বরিশাল ফজলে মাহমুদ রাব্বির ১৮৮ রানের উপর ভর করে ৩৩৩ রান করে। এছাড়া ইসলামুল আহসান আবীর  করেন ৭৮ রান। এই রান করতে ইসলামুল খেলেন ৩০৩ বল। রাব্বি ও আবীর মিলে অষ্টম উইকেটে গড়েন ২১২ রানের জুটি ফলে ৯৩ রানে ৭ উইকেট হারানোর পরও ৩৩৩ রান করতে সক্ষম হয় বরিশাল। রাজশাহীর হয়ে তিন করে উইকেট শিকার করেন সাকলায়েন সজীব ও মুহাইমুনুল খান। এছাড়া দুইটি করে উইকেট শিকার করেন শফিকুল ইসলাম ও সানজামুল ইসলাম।

জবাবে চার ফিফটিতে ৪২১ রান সংগ্রহ করে রাজশাহী। দলের সর্বোচ্চ ৯৯ রান করেন ফরহাদ রেজা। এছাড়া জুনাইদ সিদ্দিকীর ব্যাট থেকে আসে ৭১ রান, ফরহাদ হোসাইন খেলেন ৫২ রানের ইনিংস, প্রিথম কুমারও খেলেন ৬৭ রানের ইনিংস। বরিশালের হয়ে রুয়েল মিয়া ১২০ রানে শিকার করেন ৫ উইকেট।  জবাবে বরিশাল দ্বিতীয় ইনিংসে করে তিন ফিফটিতে ৪ উইকেটে ২৮৬ রান সংগ্রহ করে। উদ্বোধনী জুটিতে মোহাম্মদ আশরাফুল ও আবু সায়েম মিলে গড়েন ১১৯ রানের জুটি। ব্যক্তিগত ৭২ রানে আশরাফুল আউট হলে ভাঙে তাদের জুটি। এরপর তিনে খেলতে নামা ফজলে রাব্বি ও সায়েমের ফিফটিতে ২৮৬ রান সংগ্রহ করে বরিশাল। আবু সায়েম আউট হন ৮৭ রানে, ফজলে রাব্বি অপরাজিত থাকেন ৭১ রানে। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দুজনে যোগ করেন ৯৯ রান। রাজশাহীর হয়ে মুহাইমুনুল খান শিকার করেন ২ উইকেট।  প্রথম ইনিংসে ১৮৮ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৭১ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হন বরিশালের ফজলে মাহমুদ রাব্বি।

মোহাম্মদ আফজল

নভেম্বর / ২৫ / ২০২১
১২:৩৮ অপরাহ্ন

আপডেট : ডিসেম্বর / ০৮ / ২০২১
০৩:২৯ পূর্বাহ্ন

খেলা