২১ জানুয়ারী ২০২১ ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন     |    ই-পেপার     |     English
২১ জানুয়ারী ২০২১   |  ই-পেপার   |   English
স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে সুনামগঞ্জঃ হুমায়ুন রশীদ চৌধূরীর অবদান
স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে সুনামগঞ্জঃ হুমায়ুন রশীদ চৌধূরীর অবদান

মোঃ দিলওয়ার হোসেন বাবর

ডিসেম্বর ২৭, ২০২০ ১১:৫০ পিএম

বিংশ শতাব্দীতে আমাদের বাঙ্গালি জাতির শ্রেষ্ট অর্জন হল মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন। এর পিছনে ছিল হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার স্বপ্নপুরুষ ও স্থপতি, বাঙ্গালি জাতির মুক্তির দূত, বিশ্বের অন্যতম মহান নেতা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্ব ও সঠিক দিক নির্দেশনা। তাঁরই বলিষ্ঠ ও গতিশীল নেতৃত্বে মাত্র নয় মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ত্রিশ লক্ষ শহীদ আর দুই লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এক রক্ত সাগর পারি দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা লাভ করেছি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।

আমাদের এই মহান অর্জনের পিছনে রয়েছে এই দেশের কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ, ছাত্র, বুদ্ধিজীবি, ব্যবসায়ীসহ সর্ব স্তরের মানুষের স্বতস্ফুর্ত অংশ গ্রহণ ও মহান ত্যাগ। দেশ মাতার স্বাধীনতার জন্য সেদিন তারা সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়েছিল, সিংহের মত গর্জে উঠে হাতে হাত মিলিয়ে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল  সেই পাকিস্তানী বাহিনীর আক্রমণের বিরুদ্ধে। অদম্য মনোবল আর মাতৃভূমির প্রেমে উদ্ভুদ্ধ হয়ে, প্রাণের মায়া ত্যাগ করে রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশকে করেছিল শত্রু মুক্ত। ছিনিয়ে এনেছিল তাদের কাঙ্খিত স্বাধীনতা।

সারা দেশের সাথে তাল মিলিয়ে সেদিন সুনামগঞ্জের মুক্তিকামী ও স্বাধীনতাপ্রিয় জনতাও পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে গড়ে তুলেছিল শক্ত প্রতিরোধ। সেদিন সুনামগঞ্জের ছাত্রজনতা, কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ, ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি চাকুরীজীবি সবাই হাতে তুলে নিয়েছিল অস্ত্র। তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল রণাঙ্গনে,  শরীক হয়েছিল দেশ মাতার মুক্তির লড়াই সংগ্রামে এবং অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছিল  তাদের মহামূল্যবান প্রাণ। কেউবা সরাসরি যুদ্ধ ক্ষেত্রে অস্ত্র হাতে নিয়ে লড়াই করেছে, আবার কেউবা সংগঠক বা পরিচালকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে বুদ্ধি, মেধা ও শ্রম দিয়ে যুদ্ধ পরিচালনায় মুজিব নগর সরকারকে সহযোগিতা করে যুদ্ধজয় ত্বরান্বিত করেছে। আমাদের এই মহান মুক্তিযুদ্ধে সুনামগঞ্জ জেলার সংগ্রামী মানুষের বীরত্বগাঁথা ও গৌরবোজ্জৃল কাহিনী শুধু স্থানীয়ভাবেই নয়, জাতীয়ভাবেও স্বীকৃতি পেয়েছে।

জাতীয়ভাবে পরিচিত ও স্বীকৃতি প্রাপ্তদের মধ্যে একজন হলেন বঙ্গবন্ধুর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহচর, মুজিব নগর সরকারের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ভ্রাম্যমান রাষ্ট্রদূত, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা, সুনামগঞ্জ তথা বৃহত্তর সিলেটের কৃতি সন্তান, জননেতা আলহাজ্জ্ব আব্দুস সামাদ আজাদ। আর অন্যজন হলেন, বীর মুক্তিযুদ্ধা, রণাঙ্গনের সাব সেক্টর কমান্ডার, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন পার্লামেন্টারিয়ান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ  সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা ও সুনামগঞ্জ তথা বৃহত্তর সিলেটের অন্যতম কৃতি সন্তান, ভাটি বাংলার সিংহ পুরুষ বলে খ্যাত বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। গত দুটি পর্বে আমি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাদের উভয়ের বীরত্ব গাঁথা ইতিহাসের কথা আলোকপাত করেছি।

আজ আমি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী জাতীয়ভাবে পরিচিত ও স্বীকৃত সুনামগঞ্জ তথা বৃহত্তর সিলেটের অন্যতম গুণী ও কৃতি একজন ব্যক্তিত্বকে নিয়ে আলোচনা করব যাকে আমরা সবাই চিনি। তিনি হলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন কুটনীতিবিদ, আমাদের মহান জাতীয় সংসদের সাবেক স্পীকার ও সাংসদ, বাংলাদেশের সাবেক সফল পররাষ্ট্র মন্ত্রী, বাংলাদেশের একজন বড় মাপের সাবেক আমলা, প্রবীণ রাজনীতিবিদ আলহাজ্জ্ব হুমায়ুন রশীদ চৌধূরী।

জনাব হুমায়ুন রশীদ চৌধূরী ১৯২৮ সালের ১১ নভেম্বর সিলেট মহানগরীর দরগাগেইটস্থ রশীদ মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর মূল বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা গ্রামে। তার পিতা মরহুম আব্দুর রশীদ চৌধূরী এবং মাতা বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধূরী। তাঁর পিতা মাতা দুজনই ছিলেন এই দেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ। তাঁর পিতা ছিলেন বৃটিশ ভারতের একজন উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। পরবর্তীতে চাকুরী ছেড়ে দিয়ে চা শিল্পে ও রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি ছিলেন ১৯৩৭ সালে আসাম ব্যবস্থাপক সভার একজন সদস্য। মা সিরাজুন্নেছা চৌধারী ছিলেন নারী মুক্তি ও নারী শিক্ষা বিস্তারে এক খ্যাত নামা অগ্র পথিক। তিনি ছিলেন ১৯৬২- ১৯৬৫ সাল সময়ের পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের একজন সদস্য ( এমএনএ) এবং সফল রাজনীতিবিদ। তাঁরা উভয়েই ছিলেন তৎকালীন সময়ের সফল, উদার ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তা চেতনায় বিশ্বাসী রাজনীতিবিদ। হুমায়ুন রশীদ চৌধূরীও ছিলেন তাঁর পিতা মাতার মতই উদার ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তা চেতনার অধিকারী সম্পন্ন রাজনীতিবিদ।

জনাব হুমায়ুন রশীদ চৌধূরী সিলেট সরকারি আলীয়া মাদ্রাসায় হাই মাদ্রাসা সেকশনে প্রাথমিক শিক্ষা ও আসামে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে তিনি উত্তর ভারতের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৭ সালে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পরে তিনি ইংলিশ বারে আইন শাস্ত্রে অধ্যয়ন করেন এবং লন্ডন ইনার টেম্পল এর সদস্য হন।তিনি লন্ডনে ইনষ্টিটিউট অব ওয়ার্ল্ড এফেয়ার্স থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন। তাছাড়া তিনি ম্যাচাসুসেটসের ফ্লেচার স্কুল অব ল' আ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি থেকে স্নাতক ডিগ্রিও অর্জন করেন।

জনাব হুমায়ুন রশীদ চৌধারী তাঁর ছাত্র জীবনে ছাত্র রাজনীতির সহিত জড়িত ছিলেন। তিনি ১৯৫১ সালে যুক্তরাজ্যস্থ পাকিস্তান ছাত্র ফেডারেশনের সম্পাদক ছিলেন। ১৯৫২ সালে তিনি ঐ ফেডারেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে  তার উদ্যোগেই পাকিস্তান স্টুডেন্ট ফেডারেশনের পক্ষ থেকে লন্ডনে প্রথম বারের মত এশীয় ছাত্র কনফারেন্স সাফল্যের সহিত সমাপ্ত হয়। হুমায়ুন রশীদ চৌধূরী ছিলেন উন্নত রুচির অধিকারী সম্পন্ন একজন মানবিক মানুষ। তিনি তাঁর ভরাট গলায় খুব সুন্দর করে গান গাইতে পারতেন। তাছাড়া ছাড়া ছাত্র জীবনে তিনি অভিনয়ও করতে পারতেন। ছাত্র জীবনে তিনি ছিলেন খুবই মেধাবী।

জনাব হুমায়ুন রশীদ চৌধূরী ১৯৫৩ সালে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সুপিরিয়র সার্ভিস পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের সহিত উত্তীর্ণ হয়ে পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে যোগদান করেন। এর ফলে তিনি ঐ বিভাগের আওতায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণেও অংশ গ্রহণ করেন। তাছাড়াও লন্ডনে বৃটিশ বৈদেশিক কার্যালয়ে এবং কমনওয়েলথ ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহণ করেন।

হুমায়ুন রশীদ চৌধরী ভাষা শিক্ষার ব্যাপারে খুবই আগ্রহী ছিলেন। তিনি মাতৃভাষা ছাড়াও বহু ভাষা বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন। তিনি বাংলা ইংরেজী ছাড়াও উর্দু, ফরাসী ইতালীয়ান ভাষায় পারদর্শীতা অর্জন করেছিলেন। আরবী, স্প্যানিশ, পর্তুগীজ, জার্মান ও ইন্দোনেশীয় ভাষাতেও তাঁর গ্রহণযোগ্য পান্ডিত্য ছিল। পাকিস্তান সরকারের অধীনে তিনি রোম, বাগদাদ, প্যারিস, জাকার্তা ও দিল্লি  দুতাবাসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ছিলেন। যেখানেই তিনি নিয়োজিত থাকতেন, সেখানকার ভাষাই তিনি রপ্ত করতেন। ইহা ছিল মূলত তাঁর গভীর দায়িত্ববোধ এবং কর্মে উৎকর্ষ লাভের প্রচেষ্টারই পরিচায়ক।

১৯৭১ সালে যখন আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয়, তখন জনাব হুমায়ুন রশীদ চৌধারী ছিলেন ভারতে পাকিস্তান দূতাবাসে কর্মরত। তখন তিনি পাকিস্তান সরকারের একজন কর্মকর্তা। ঐ সময় তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও সততার সহিত তাঁর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সেই সময় পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের উপর পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্টীর দমন-পীড়ন, শোষণ- নির্যাতন ও অত্যাচারী মনোভাব দেখে  ব্যাথাতুর হয়ে উঠতে থাকে তাঁর দরদী মন। পূর্ব পাকিস্তানী জনগণের অর্থনৈতিক বঞ্চনা দেখে আস্তে আস্তে ক্ষুব্ধ হতে থাকে তাঁর সচেতন বাঙ্গালি স্বত্বা। বঞ্চিত বাঙ্গালিরা যখন পাকিস্তানীদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে তাদের ন্যায্য অধিকার ও দাবি আদায়ের জন্য পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে,  তখন তিনি পাকিস্তান সরকারের অধীনে চাকুরী করলেও বাঙ্গালিদের ন্যায় সঙ্গত দাবি আদায়ের আন্দোলনে মৌন সমর্থন দিতেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কাল রাতে পাকিস্তানী বাহিনী ইয়াহিয়ার নির্দেশে তাদের অপারেশন সার্চ লাইট অনুসারে ঘুমন্ত নিরীহ বাঙ্গালিদের উপর অতর্কিতভাবে আক্রমণ চালায় এবং নির্বিচারে গুলি করে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করে ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা শুরু করে। আগুন জালিয়ে পুড়ে ছাড় খাড় করে দেয় শত শত বাড়ি ঘর ও দালানকোঠা। সমগ্র ঢাকা শহর হয়ে পড়ে এক মৃত্যপুরী। এই অবস্থা দেখে হুমায়ুন রশীদ চৌধূরীর বাঙ্গালি স্বত্বা বিদ্রোহী হয়ে উঠে। তিনি তখন আর নীরবে বসে থাকতে পারেননি। তিনি তখন নয়া দিল্লিস্থ পাকিস্তান দূতাবাসের বাসায় এক প্রেস কনফারেন্স করে পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে বাংলাদেশকে পাকিস্ততিানী শত্রু মুক্ত করার জন্য  বাঙ্গালিদের সাথে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি তখন পাকিস্তান দুতাবাসকে বাংলাদেশ দুতাবাস ঘোষণা দিয়ে সেই বাংলাদেশী দুতাবাসের প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এই সময় হুমায়ুন রশীদ চৌধূরী অনেক কঠিন সময় পার করেন। তিনি তখন দুতাবাসে কর্মরত বাঙ্গালিদের জীবন রক্ষায় অগ্রণী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন। তিনি বিদেশী গণমাধ্যমে বাঙ্গালি জাতির মুক্তির দূত  ও তাদের প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির জোরালো আহবান জানান। তিনি তখন তৎকালীন মুজিব নগর সরকারের সহিত নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং তাদের নির্দেশ মত কাজ করতেন। তিনি সেই সময় প্রায়ই রণাঙ্গণ পরিদর্শনে যেতেন। সেই সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধাদের মনোবল চাঙ্গা করার জন্য জাতির জনকের পক্ষে তাদের উৎসাহ দিতেন এবং সাধ্যমত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতেন। আবার তিনি যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে কুটনৈতিক কোরের সহকর্মীদের আপডেট করতেন।

জনাব হুমায়ুন রশীদ চৌধূরী আমাদের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে দিল্লিতে বাংলাদেশ মিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে বাংলাদেশের পক্ষে  স্বীকৃতি আদায়ের ব্যাপারে অনেক পরিশ্রম ও চেষ্টা করেন। ঐ সময় তিনি প্রায় চল্লিশটি দেশের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে কুটনৈতিক তৎপরতা চালান। তাঁর সফল কুটনৈতিক তৎপরতার ফলেই মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের চুড়ান্ত বিজয়ের আগেই নেপাল ও ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। এতে রণাঙ্গণে মুক্তিযুদ্ধারা মানসিকভাবে আরও শক্তি লাভ করে এবং এতে আমাদের বিজয় লাভ ত্বরান্বিত হয়। ১৯৭১ সালে ডিসেম্বরে ভারতের সংসদে এক যৌথ অধিবেশনে হুমায়ুন রশীদ চৌধূরী ভাষণ দেওয়ার মত বিরল গৌরব অর্জন করেন।

দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর  বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পরেও বঙ্গবন্ধু শেখ মহজিবুর রহমান পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ভারত হয়ে যখন বাংলাদেশে আসেন তখনও দিল্লিতে বাংলাদেশ দুতাবাসের প্রধান হিসেবে হুমায়ুন রশীদ চৌধূরী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়াও স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ও তাঁর সফল ও জোরালো তৎপরতার কারণে অনেক দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। অবশ্য স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও কাজের স্বীকৃতি হিসেবে আওয়ামীলীগ সরকার ২০১৮ সালে  হুমায়ুন রশীদ চৌধারীকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করে সম্মানিত করেছে। 

সুতরাং দেখা যায় যে, জনাব হুমায়ুন রশীদ চৌধূরী আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে যে অবদান রেখেছেন তা অতুলনীয় ও অবিস্মরণীয়। দেশ ও জাতি তা চিরদিন শ্রদ্ধার সহিত স্মরণ করবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তাঁর নাম চির অম্লান হয়ে থাকবে।

মোঃ দিলওয়ার হোসেন বাবর ,কলেজ শিক্ষক ও কলামিষ্ট।

সমন্বয়কারী ,বঙ্গবন্ধু গবেষণা সংসদ ,সিলেট।

এস/এ