১৯ জানুয়ারী ২০২১ ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন     |    ই-পেপার     |     English
১৯ জানুয়ারী ২০২১   |  ই-পেপার   |   English
মৌলভীবাজারের
সাবেক এমপি তোয়াবুর রহিম চলে গেলেন না ফেরার দেশে
সাবেক এমপি তোয়াবুর রহিম চলে গেলেন না ফেরার দেশে

বিশেষ প্রতিনিধি, আব্দুল ওয়াদুদ দুদু

জানুয়ারী ০২, ২০২১ ১২:৪৯ পিএম

১৯৭৩ সালে অনুষ্টিত নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদের সিলেট-১৪ (মৌলভীবাজার-রাজনগর-কমলগঞ্জ একাংশ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ সংবিধানে স্বাক্ষরদানকারী, মৌলভীবাজার এলাকার সবচেয়ে প্রবীণ এই বিশিস্ট রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ সহচর, বর্নাট্য জীবনের অধিকারী,আলহাজ্ব তোয়াবুর রহিম লন্ডনের একটি হাসপাতালে ৩১শে ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ৮টা বেজে ৩০ মিনিটের সময় ইন্তেকাল করেছেন।(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্য জনিত নানা জঠিল রোগে ভোগছিলেন l সেই সাথে তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৯৩ বছর, তিনি স্ত্রী, ছেলে, নাতি-নাতনি, সহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। 

আলহাজ্ব তোয়াবুর রহিম তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে রাজনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মনসুরনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য থেকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন l ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে তিনি পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন এবং সেই হিসেবে পরবর্তীতে গণ পরিষদের সদস্য এবং স্বাধীন বাংলাদেশের ১ম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর থেকে তিনি কোন এক অজানা কারনে আর রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন নি। এরপর তিনি লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং নিভৃতচারী জীবন বেঁচে নেন। 

ব্রিটেনের পশ্চিম লন্ডনের ইলিং এর বাসিন্দা মরহুম তোয়াবুর রহিমের বাবা হাজী সালামত মিয়া যার হাত ধরে বিলেতে বাংলাদেশী রেস্টুরেন্ট ব্যবসার প্রসার ঘটেছিলো, তৎকালীন সময়ে সকলের কাছে হাজী সালামত মিয়া বিগ বস হিসেবে পরিচিত ছিলেন l মরহুম তোয়াবুর রহিম যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ ক্যাটারিং এসোসিয়েশন বিসিএ’র নেতৃত্ব দেন।

১৯৯৫ সালে দেশে ফিরে গিয়ে অবসর জীবনে নিজ এলাকা জন্ম ভূমি মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বালিসহস্র গ্রামে তার প্রতিষ্ঠিত স্কুল পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন জনহিতকর কাজের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি নিজ এলাকার রাস্তা ঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে স্মরণীয় অবদান রেখেছেন। তিনি তার বাবার নামে হাজী সালামত স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাইমারী স্কুল সহ স্থানীয় সালামতগঞ্জ বাজার প্রতিষ্ঠা করেন করেন যা পুরো জেলায় (এমপির বাজার) নামে সমধিক পরিচিত ।

তিনি এলাকার শিক্ষাবিস্তারে নির‌বি‌চ্ছিন্নভাবে আমৃত্যু অবদান রেখে গেছেন। বর্ণাঢ্য এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে দেশ বিদেশ সহ বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে l 

 

ই/ডি