০৭ মার্চ ২০২১ ০৩:৪৯ অপরাহ্ন     |    ই-পেপার     |     English
০৭ মার্চ ২০২১   |  ই-পেপার   |   English
পৃথিবীর মোহ মায়া ত্যাগ করে চলে গেলেন এটিএম শামসুজ্জামান
পৃথিবীর মোহ মায়া ত্যাগ করে চলে গেলেন এটিএম শামসুজ্জামান

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

ফেব্রুয়ারী ২০, ২০২১ ১১:০৫ এএম
বরেণ্য অভিনেতা এ টি এম সামসুজ্জামান



পৃথিবীর মোহ মায়া ত্যাগ করে চলে গেলেন দেশ বরেণ্য অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে সূত্রাপুরের নিজ বাসায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন l 

দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা অসুখ-বিসুখে ভুগছিলেন এটিএম শামসুজ্জামান। রক্তে অক্সিজেন লেভেল কমে যাওয়ায় গত বুধবার ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে পুরান ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল, হাসপাতালে ডা. আতাউর রহমান খানের তত্ত্বাবধানে ছিলেন তিনি । কিন্তু হাসপাতালে থাকতে না চাওয়ায় শুক্রবার বিকেলে তাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। এর আগেও একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি। গেল বছরের ৩০ এপ্রিল তাকে লাইফ সাপোর্টে পর্যন্ত রাখা হয়েছিল।

এটিএম শামসুজ্জামানের পুরো নাম আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান। ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এ বরেণ্য অভিনেতা। তার পৈতৃক নিবাস লক্ষীপুরের ভোলাকোটের বড় বাড়ি। আর ঢাকায় দেবেন্দ্রনাথ দাস লেনে বসবাস করতেন তিনি। এটিএম শামসুজ্জামান ঢাকার পগোজ স্কুল, কলেজিয়েট স্কুল, রাজশাহীর লোকনাথ হাই স্কুলে লেখাপড়া করেছেন। ময়মনসিংহ সিটি কলেজিয়েট হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করে জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হন। তার পিতা নূরুজ্জামান ছিলেন নামকরা আইনজীবী। শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের সঙ্গে রাজনীতি করতেন নূরুজ্জামান। মাতা নুরুন্নেসা বেগম। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে শামসুজ্জামান ছিলেন সবার বড় l 

১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন এটিএম শামসুজ্জামান। প্রথম কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেন ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের জন্য। এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনি লিখেছেন।

এটিএম শামসুজ্জামান ছিলেন একাধারে অভিনেতা, পরিচালক, কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপ লেখক  ও গল্পকার।

প্রথম দিকে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন। অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র পর্দায় তার আগমন ঘটে ১৯৬৫ সালে। নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘লাঠিয়াল’ চলচ্চিত্রে প্রথমে খল চরিত্রে অভিনয় করলেও ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি। তিনি ‘অশিক্ষিত’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘স্বপ্নের নায়ক’ চলচ্চিত্রে খল চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন। সিনেমা পরিচালনায়ও তিনি মুন্সিয়ানার পরিচয় রেখেছেন, ২০০৯ সালে শাবনূর-রিয়াজ জুটির ‘এবাদত’ নামের সিনেমা প্রথম পরিচালনা করেন এটিএম শামসুজ্জামান।

অভিনয়ের জন্য পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন এটিএম শামসুজ্জামান। ২০১৭ সালে ৪২ তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানে আজীবন সম্মাননাসহ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ছয় বার। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক লাভ করেন এই শিল্পী।

 

এস/সি/ইউ