০৭ মার্চ ২০২১ ০২:১১ অপরাহ্ন     |    ই-পেপার     |     English
০৭ মার্চ ২০২১   |  ই-পেপার   |   English
মায়ানমারে সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত আরও দুই বিক্ষোভকারী
মায়ানমারে সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত আরও দুই বিক্ষোভকারী

বিশেষ প্রতিনিধি, আব্দুল ওয়াদুদ দুদু

ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২১ ১২:২৯ এএম
সৌজন্যে টুইটার



মায়ানমারে স্বচ্ছ-স্বাভাবিক দুর্নীতি বিহীন রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও দেশের জনজীবনের উন্নয়ন ফেরাতে নাকি সেনাশাসন জারি করা হয়েছে বলে প্রচারিত হয়েছে ! অথচ সেনা অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করে পথে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। সেই আন্দোলনকে দমাতে নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে আজ শনিবার আবারো এলোপাথারি গুলি ছুড়েছে মায়ানমার সেনাবাহিনীর প্রচ্ছন্ন আজ্ঞাবহ পুলিশ । ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে ২ জনের, আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ জন।

সাম্প্রতিক সামরিক ক্যু বিরোধী জনগন মান্দালয় শিপইয়ার্ড এলাকার ধর্মঘটি জাহাজ নির্মাণ শ্রমিকদের সাথে যুগপৎ ওই এলাকায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। একপ্রকার আচমকাই বন্দর এলাকাতে প্রচুর পুলিশ ও সেনাসদস্যরা জড়ো হয়। হঠাৎই অধিক সংখ্যক পুলিশ-সেনাবাহিনীর আগমনে সন্ত্রস্ত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে মান্দালয়ের স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এই আতঙ্কে ঘরের ভিতর থেকে পুলিশ ও সেনাবাহিনী সদস্যদের লক্ষ্য করে বাসনপত্র ছুঁড়তে শুরু করে। পুলিশের অভিযোগ, পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ে বিক্ষোভকারীরাও। পালটা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে পুলিশ ও সেনাবাহিনী । বন্দুকের তাজা গুলির পাশাপাশি রাবার বুলেটও ছোঁড়া হয়।

মান্দালয়ের জরুরীসেবা ও উদ্ধারকারী দলের প্রধান হ্ল্যাইং মিন উ জানান, সেনা ও পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে দুজন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন আবার নাবালক রয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে  ৩০ জন। তাঁদের শরীরে রবার বুলেটের আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। সূত্রের খবর, এদিন উপস্থিত রেডক্রসের গাড়িতেও হামলা করা হয় মান্দালয়ে।

প্রকাশ থাকে যে গত ১ ফেব্রুয়ারি আং সান সু কি ও জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতিনিধিদের গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী। এক বছরের জন্য দেশে জারি হয় জরুরি অবস্থা। দৃশ্যত মায়ানমারে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থেকে অহিংস প্রতিবাদের অধিকার সবই কেড়ে নিয়েছে সামরিক জান্তা । 

তারপর থেকেই রাজধানী নেপিডো ও ইয়াঙ্গন-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে গণবিক্ষোভ। প্রতিবাদের আগুন যাতে আরও ছড়িয়ে না পড়ে তাই দেশজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ করে রেখেছে দেশের সেনাবাহিনী । কিন্তু এতকিছুর পরও রাস্তায় নেমে সু কি’র মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করছে মানুষ। এই আন্দোলনকে দমনের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে সেনা প্রশাসন। উল্লেখ্য, সেনার গুলিতে গত বৃহস্পতিবারই  এক আন্দোলরত যুবতীর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আরও দুজনের মৃত্যু হল।

 

আন্দোলরত যুবতীকে হত্যা করার ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে  

https://twitter.com/i/status/1363114048036896769

 

এস/সি/ইউ