এপ্রিল / ১৮ / ২০২১ ০২:২৩ পূর্বাহ্ন

শাহিদ হাতিমী

মার্চ / ২৬ / ২০২১
১২:২৯ পূর্বাহ্ন

আপডেট : মার্চ / ২৬ / ২০২১
১২:২৯ পূর্বাহ্ন


বিভীষিকাময় এক কালো অধ্যায় : শাহিদ হাতিমী

লিখছি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকালে। অজকের বাংলাদেশ আর সেদিনের বাংলাদেশ কি সমান ছিল? এতোকিছুর আত্মগরিমার লেসও কি ছিল তখন আমাদের? ৫০বছর আগের কথা বলছি। একটি স্বাভাবিক রাতে ঝলমলে দিনশেষে এক বিভীষিকাময় অস্বাাভাবিক অধ্যায় নেমে আসবে বাঙালি কি জানতো? রাতটি ছিল ঈসায়ী ক্যালেন্ডারে ২৫ মার্চ দিবাগত । বর্বর গণহত্যার বেদনাবহ স্মৃতি নিয়ে আমাদের মাজে হাজির সেই কালরাত।

সেদিন ২৫ মার্চ, ১৯৭১। দিনের কাজ শেষে ঘরে ফিরে ঢাকা শহরের ক্লান্ত মানুষ তলিয়ে গেছে গভীর ঘুমে। কেউ দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি কী নারকীয় তাণ্ডব নেমে আসতে যাচ্ছে এই শহরের ওপর। এক লোমহর্ষক বর্বর হত্যা আর ধ্বংসের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হয়েছিল সেই রাতে। মানবেতিহাসে সংযোজিত হলো এক ঘৃণ্যতম মসিলিপ্ত অধ্যায়। ঘুমন্ত বাঙালিদের হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছিল হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী। মহাকালের চক্রযানে আবার ফিরে এল সেই হত্যাযজ্ঞের বেদনামথিত স্মৃতি নিয়ে ২৫ মার্চ, বাঙালি জাতির জীবনে যা চিহ্নিত হয়ে আছে এক কালরাত হিসেবে।

 রাতটি ছিল ঘনঘোর অন্ধকার। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে সেই রাতে ঘুমন্ত বাঙালিকে হত্যার অভিযানে মেতে উঠেছিল বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী। তখন পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো কড়া পাহারায় অবস্থান করছিলেন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের (বর্তমানে রূপসী বাংলা হোটেল) দ্বাদশ তলায়। তৎক্ষালিণ পাকিস্তান জমিয়ত নেতা মুফতী মাহমুদের কড়া প্রস্তাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনার জন্য ঢাকায় এসেছিলেন তিনি। পরিস্থিতির খবর সংগ্রহ করতে আসা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকেরাও ছিলেন ওই হোটেলে।

কিন্তু...

পাকিস্তানি সেনারা মধ্যরাতে হোটেল ঘিরে ফেলে। সবাই অবরুদ্ধ। এদিকে হিংস্র শ্বাপদের মতো বেরিয়ে এসেছে ট্যাংক আর সাঁজোয়া গাড়ির সারি সেনানিবাস থেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল আর ইকবাল হলে সেনারা মেতে উঠল নির্বিচার হত্যায়। গোলা ফেলা হলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসে। পথের পাশের বস্তিবাসীও রক্ষা পেল না গণহত্যা থেকে। যত্রতত্র ধরিয়ে দেওয়া হলো আগুন। এরপর সেনারা হামলা করল রাজারবাগ ও পিলখানায়। বাঙালি পুলিশ ও ইপিআরের (বর্তমানে বিজিবি) সদস্যরা বীরত্বের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন বটে, কিন্তু ট্যাংক ও ভারী অস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণের কাছে তাঁরা সংগত কারণেই টিকতে পারেননি

ওই রাতেই পাকিস্তানিদের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে এই গণহত্যার উল্লেখ করে দেশকে মুক্ত করার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলা মায়ের অকুতোভয় বীর সন্তানেরা প্রাণের মায়া তুচ্ছ করে ক্রমে হানাদারদের বিরুদ্ধে দেশজোড়া প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সেই প্রতিরোধ নানা পর্যায়ে নয় মাসের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় বাঙালির চিরকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি বিজেতাদের। মাগফেরাত কামনা করছি বিশ্বাসী প্রয়াণবাসীর ।

মুক্ত চিন্তা