এপ্রিল / ১৮ / ২০২১ ০২:৪২ পূর্বাহ্ন

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

এপ্রিল / ০৮ / ২০২১
১১:৪৯ পূর্বাহ্ন

আপডেট : এপ্রিল / ০৮ / ২০২১
১১:৪৯ পূর্বাহ্ন


লকডাউন সুনিশ্চিতে সেনা সহায়তা ও কারফিউর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে ‘কার্যকর’ লকডাউনের কোনো বিকল্প নেই এবং প্রয়োজনে সেনা সহায়তা নিয়ে রাত্রীকালীন কারফিউ জারি করা যায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

গতকাল বুধবার (৭ এপ্রিল) এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সরকারের নানা পদক্ষেপের বর্ণনা দিয়ে সংক্রমণ রোধের ওপরই জোর দিয়েছেন তিনি । স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। সংক্রমণ রোধ করতে হবে। একটি হাসপাতাল তৈরি করছি। কিন্তু আমরা জানি এটাও অপ্রতুল হবে সংক্রমণ রোধ করতে না পারলে।'

উল্লেখ্য, সংক্রমণের গতি রোধের জন্যই গত সোমবার থেকে এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হয়, যা জনসাধারণের মাঝে লকডাউন হিসেবে পরিচিত পায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো মাত্র দু’দিন পরেই সেটি ভেঙে পড়েছে এবং কর্তৃপক্ষ নিজেই শহরের মধ্যে বাস চালনার অনুমতি দিয়েছে। এতে একদিকে অকার্যকর হয়েছে লকডাউন, অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিধি পালনের নূন্যতম বিষয়টি নিশ্চিত করা দুরূহ হয়ে পড়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ব্র্যাকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচির পরিচালক কাওসার আফসানা বলছেন, একটি কার্যকর লকডাউন ছাড়া সংক্রমণের গতিরোধ করার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, 'পুলিশ বা আর্মি যাদের দিয়ে অন্য দেশে কন্ট্রোল করা হয়েছে, আমাদের দেশেও তা করতে হবে। দু’সপ্তাহ কঠোর লকডাউন করেন। লকডাউন মানে সব বন্ধ থাকবে। লকডাউনের কোনো বিকল্প নেই। যে কোনো ধরণের জমায়েত বন্ধে কঠোরতার পাশাপাশি লকডাউনে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদের সরাসরি সহায়তা নিশ্চিত করে আগ্রহী করতে হবে।'

বাংলাদেশে গত বছর ২৫শে মার্চ সরকার প্রাথমিকভাবে ১০ দিনের একটি লকডাউন ঘোষণা করেছিল যা পরে কয়েক দফায় বাড়ানো হয়েছিল। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় জুনের পর লকডাউন শিথিল করে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবারের লকডাউন কার্যতঃ ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে ব্যবসায়ীদের চাপ আর মানুষের দুর্ভোগ কমাতে যান চলাচলে অনুমতি দেওয়ার কারণেই।

এদিকে জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অভিভাবকের জমায়েতের সুযোগ দেওয়া কিংবা মেলা চালু রাখা ছাড়াও নানা জায়গায় নানা সমাবেশ করতে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লেনিন চৌধুরী বলছেন, 'বাস্তবতার ভিত্তিতে কৌশল নিয়ে প্রয়োজনে রাত্রিকালীন কারফিউর কথাও বিবেচনা করতে পারে সরকার। সমস্ত সভা সমাবেশ মেলা ও খেলা বন্ধ করতে হবে। দোকানপাট অফিস ছয় ঘণ্টা খোলা রাখা যেতে পারে এবং রাতে কারফিউ জারি হতে পারে।'

তবে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় উপরিউক্ত বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো মতামত পাওয়া যায়নি। তবে কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সংক্রমণ ছড়ানোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলোকে ঘিরে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে এবং তার আলোকেই মঙ্গলবার মাদ্রাসাগুলো বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বুধবারই ধর্মীয় উপাসনালয়েও গণজমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 

জাতীয়