ডিসেম্বর / ০৮ / ২০২১ ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন

বিনোদন ডেস্ক

নভেম্বর / ২২ / ২০২১
১১:২৭ পূর্বাহ্ন

আপডেট : ডিসেম্বর / ০৮ / ২০২১
০৩:২৮ পূর্বাহ্ন

বিষয়ের ভিত্তিতে চার ভাগ হচ্ছে সিনেমা



36

Shares

বিষয়বস্তু অনুযায়ী চার শ্রেণিতে ভাগ হচ্ছে দেশের সিনেমা। সব বয়সিদের জন্য হবে এক ধরনের সিনেমা। ১২ বছরের কম বয়সি শিশুদের জন্য হবে আরেক ধরনের। আর ১২ থেকে ১৮ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য হবে তাদের উপযোগী সিনেমা।

এছাড়া ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড’র নাম বদলে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড’ হবে। এসব বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন-২০২১’-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। আজ মন্ত্রিসভায় খসড়া আইনের প্রস্তাব উঠবে বলে জানা গেছে। মন্ত্রিসভায় এর নীতিগত সম্মতি মিললে বা কোনো নির্দেশনা যোগ হলে সে অনুযায়ী ফের আইনের পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। এছাড়া জেলা পরিষদ আইনের সংশোধনও আজকের বৈঠকে ওঠার কথা রয়েছে।

বৈঠকে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে বৈঠকে মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন। করোনা শুরু হওয়ার পর প্রায় এক বছরের বেশি সময় এ পদ্ধতিতে মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিষয়বস্তু বিবেচনায় সিনেমাকে চার ভাগে ভাগ করে যে আইনের সংশোধন খসড়া তৈরি করা হয়েছে তাতে সব বয়সি মানুষের দেখার উপযোগী সিনেমাকে একটি শ্রেণিতে রাখা হবে। সন্তানদের নিয়ে দেখলে পিতা-মাতা যেন বিব্রত না হন-এমন সব সিনেমা থাকবে এই শ্রেণিতে। হালকা সংঘর্ষ বা রসিকতা থাকলেও নগ্নতা, যৌনতা, হিংস্রতা কিংবা অশালীন ভাষার ব্যবহার থাকবে না এ শ্রেণির সিনেমায়। কাহিনির প্রয়োজনে ধূমপান বা মাদক গ্রহণের দৃশ্য দেখাতে হলে সতর্কীকরণ বক্তব্য বা চিহ্ন দেখাতে হবে। আরেক শ্রেণির সিনেমা হবে ১২ বছরের কম বয়সি শিশুদের জন্য। শিশুতোষ এসব সিনেমায় হালকা ভীতিকর দৃশ্য থাকার সুযোগ রাখা হয়েছে। ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সি শিশু-কিশোরদের জন্য প্রস্তাবিত এ ধরনের সিনেমায় কম মাত্রার ভীতিকর দৃশ্য এবং রোমান্টিকতার উপস্থিতি থাকতে পারে। শেষ ধাপে থাকা সিনেমাগুলো মূলত বেশি বয়সি অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রযোজ্য হবে। ১৮ বছর ও তার বেশি বয়সিদের জন্য এ ধরনের চলচ্চিত্রে পরিমিত মাত্রায় সন্ত্রাস, ভয়ানক দৃশ্য এবং রোমান্টিক দৃশ্যের উপস্থিতি থাকবে।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে মতামত আহ্বান করা হলে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আপত্তি ওঠে। তবে কেউ কেউ এমন আইনের প্রয়োজন আছে বলেও মত দিচ্ছেন। সেন্সর বোর্ডের সাবেক সদস্য ও মধুমিতা সিনেমা হলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী বয়স অনুযায়ী গ্রেড করে সিনেমার প্রচলন আছে। এটা আমাদের দেশেও দরকার আছে।’ আইনে চলচ্চিত্রের সার্টিফিকেট সাময়িক স্থগিত করা সংক্রান্ত বিধানে বলা হয়েছে, সার্টিফিকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যান যদি মনে করেন একটি সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত সিনেমা বাংলাদেশের ভেতরে প্রদর্শন উচিত না, তা হলে তিনি আদেশ জারির মাধ্যমে সাময়িকভাবে সার্টিফিকেট স্থগিত করতে পারেন। যদি কোনো জেলা প্রশাসক মনে করেন যে, তার এলাকায় কোনো সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত সিনেমা প্রদর্শন উচিত নয়, তাহলে তিনি আদেশ জারির মাধ্যমে তার জেলার সীমানার মধ্যে সেই ছবির সার্টিফিকেট বাতিল করতে পারেন। আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে, স্থানীয় চলচ্চিত্র শিল্পের স্বার্থে অথবা যে কোনো জাতীয় স্বার্থে একটি সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের সার্টিফিকেট আদেশ জারির মাধ্যমে সার্টিফিকেট বাতিল করা যাবে।

জেলা পরিষদ আইন : এদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের বিধান রেখে সংশোধিত আইন আজ মন্ত্রিসভায় উঠছে। জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী, পরিষদ গঠন হওয়ার আগ পর্যন্ত সরকারের নিয়োগ পাওয়া প্রশাসক দায়িত্ব পালন করতে পারেন। কিন্তু পরিষদ গঠনের পর মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তী নির্বাচিত পরিষদের প্রথম বৈঠক পর্যন্ত বিদ্যমান পরিষদকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। আইনটি সংশোধন হলে এ সুযোগ থাকবে না।

বিদ্যমান জেলা পরিষদ আইনের মোট ৮টি ধারায় সংশোধন আনার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। জেলা পরিষদ আইনের ৩৯(১) উপধারার নিয়ম অনুযায়ী ‘সচিব’ পদনামটি থাকছে না। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী জেলা পরিষদে উপসচিব মর্যাদার একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব পদে একজন কর্মকর্তাসহ অন্যরা দায়িত্ব পালন করেন। প্রস্তাবিত সংশোধনে ‘সচিব’ পদবির পরিবর্তে ‘নির্বাহী কর্মকর্তা’ পদবির প্রস্তাব করা হয়েছে।

জেলা পরিষদের সদস্য সংখ্যা যৌক্তিকীকরণের লক্ষ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, প্রত্যেক জেলায় ১ জন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য ও ৫ জন মহিলা সদস্য অর্থাৎ মোট ২১ সদস্যের পরিষদ রয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনে জেলার প্রত্যেক উপজেলায় একজন করে সদস্য এবং সদস্য সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ নারী সদস্য রাখার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে। ১৭টি উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা জেলা। আবার ৩টি উপজেলা নিয়ে রয়েছে নড়াইল জেলা। প্রস্তাবিত সংশোধনের যুক্তিতে বলা হয়েছে, ছোট আয়তনের জেলায় পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জন্য যে খরচ সরকার দেয়, বড় আকারের জেলার জন্যও তাই দিতে হয়। কিন্তু ছোট আকারের জেলাগুলো থেকে তেমন রাজস্ব আদায় হয় না। তাই প্রত্যেক জেলায় উপজেলা অনুযায়ী একজন করে সদস্য এবং সেই অনুযায়ী নারী সদস্য সংখ্যা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন এ ব্যবস্থা কার্যকর করতে আইনের ১৭(১)(২) ধারাও সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়। এছাড়াও বিদ্যমান আইনের ৪৯, ৩৩, ৩৭ নম্বর ধারায়ও কিছু সংশোধন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া আজকের মন্ত্রিসভা বৈঠকে জাতীয় সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ, মন্ত্রণালয় ও বিভাগুগলোর বার্ষিক প্রতিবেদনসহ আরও তিনটি এজেন্ডা রয়েছে।

বিনোদন ডেস্ক

নভেম্বর / ২২ / ২০২১
১১:২৭ পূর্বাহ্ন

আপডেট : ডিসেম্বর / ০৮ / ২০২১
০৩:২৮ পূর্বাহ্ন

বিনোদন