মে / ১৬ / ২০২২ ১০:২২ অপরাহ্ন

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা গোয়াইনঘাট::

মে / ১৪ / ২০২২
০১:৫৮ পূর্বাহ্ন

আপডেট : মে / ১৬ / ২০২২
১০:২২ অপরাহ্ন

দুই হাজার মুরগির সাথে ভেসে গেলো খামারির স্বপ্ন



62

Shares

সিলেটের গোয়াইনঘাটে আকস্মিক বন্যায় ভেসে গেছে এক খামারির স্বপ্ন। গভীর রাতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে খামারে প্রবেশ করে। এতে করে খামারের মোরগ মরে পানিতে ভেসে ওঠে। 

ঘটনাটি ঘটে গোয়াইনঘাট উপজেলার ৫ নং পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের নায়ামাটি গ্রামে। রাতের আঁধারে খামারে পানি ঢুকে ভেসে যায় খামারি শামীম আহমেদের স্বপ্ন। সকালে পানিতে ভেসে ওঠে খামারে থাকা লেয়ার বয়লার সোনালী জাতের দুই হাজার মরা মোরগ।

খামার মালিক শামীম আহমদের অভিযোগ, খামারের পাশের গুপাটে অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা তৈরি করেন প্রতিবেশীরা। এতে পানি যাতায়াতের রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির হয়ে পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় গভীর রাতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে খামারের ভেতরে ঢুকে যায়। মোরগ মরে পানিতে ভেসে যায়। যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দুই লক্ষ টাকার বেশি।

খামারি শামীম আহমদ জানান, প্রতিদিনের মতো তিনি তার খামারে রাত সাড়ে বারোটা পর্যন্ত কাজ করেছেন। তখন খামারের পাশের গুপাট দিয়ে আটকে যাওয়া পানি তার খামার হইতে দুই হাত দূরে ছিল। তাই তিনি নিশ্চিন্তে বাড়িতে চলে যান। তিনি কল্পনাও করেননি গভীর রাতে সেই আটকে যাওয়া পানি এসে তার খামারের ২০০০ হাজার মোরগ পানিতে ভেসে মরে যাবে। সকালে যখন খবর পান তার তিনটি সেডে পালিত দুই হাজার মোরগ মরে পানিতে ভেসে গেছে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তার ছোটভাই আলিম উদ্দিন যখন সকাল ৫ টায় এই অবস্থা দেখেন তিনিও জায়গায় অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। স্থানীয় একজন ব্যক্তি তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে খবর দেন।

শামীম আহমদ জানান, তার চার পাঁচজন প্রতিবেশী পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না রেখে অপরিকল্পিতভাবে যার যার বাড়ির রাস্তা করে পানি যাতায়াতের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তিনি শুরু থেকেই তাদের কে বলেছিলেন এই রাস্তার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকলে আমার ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। একজন অন্যজনকে বললেও কেউই পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা রাখেনি। তিনি বলেন টানা চারদিনের প্রবল বৃষ্টিতে পানি যাতায়াতের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় পানি জমে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। আমার কপাল পুড়েছে। কে শুনবে আমার আাহাজারি, কে দেখবে চোখের জল। তার খামারে ৫০০ টি লেয়ার ১০০০ টি বয়লার ও ৫০০ টি সোনালি জাতের মোরগ ছিল। সাথে মোরগের খাবারের বস্তাও নষ্ট হয়ে গেছে বলে তিনি জানান।

স্থানীয়রা জানান খামারি শামিম আহমদ গরীব কিন্তু  অত্যন্ত পরিশ্রমী। এই পোল্টি খামার করে সে তার ১১/১২ জন সদস্যের পরিবারের লোকজনের মুখে আহার তুলে দেয়। এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে তার অনেক সময় লাগবে, পারবে কিনা সন্দেহ আছে।

এ ব্যাপারে ৫ নং পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, আমি এই খবর শুনে স্হানীয় কয়েকজনকে দায়িত্ব দিয়ে বলেছি তড়িৎ গতিতে পানি নিষ্কাশনের জন্য সুষ্ঠু ব্যবস্থা করে দিতে এবং তার সাথে সমঝোতা করে ক্ষতিপূরণেরও ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে দিয়েছ।


সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা গোয়াইনঘাট::

মে / ১৪ / ২০২২
০১:৫৮ পূর্বাহ্ন

আপডেট : মে / ১৬ / ২০২২
১০:২২ অপরাহ্ন

সিলেট