মে / ১৬ / ২০২২ ০৯:১৩ অপরাহ্ন

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাটঃঃ

মে / ১৪ / ২০২২
০১:১০ অপরাহ্ন

আপডেট : মে / ১৬ / ২০২২
০৯:১৩ অপরাহ্ন

গোয়াইনঘাটে ফের বন্যা ; বিপাকে কৃষক



42

Shares

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় দফায় দফায় বন্যায় উপজেলার কৃষকরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল বোরো ধান নিয়ে বারবার দেখা স্বপ্নে আঘাত হানছে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে আসাম ও মেঘালয়ের পাদদেশ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায়। পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট বন্যায় আবারো ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় উপজেলার  কৃষক।নদনদী উপচে হাওর তলিয়ে এখন নিমজ্জিত হচ্ছে উপরের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বোরো ধান।পানিতে ডুবছে ধান, হুমকিতে কৃষক। 

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষনে উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ভেসে গেছে পুরো গোয়াইনঘাট উপজেলা ৷তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট,ঘরবাড়ি  ,ক্ষেতের জমি ৷যার ফলে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে ৷ইতিমধ্যে সিলেট সদরের সাথে যোগাযোগের উপযোগী একমাত্র রাস্তা সারি গোয়াইনঘাট রাস্তার বিভিন্ন অংশ পানিতে ডুবে গেছে,যার ফলে সিলেটের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার চরম শংকায় রয়েছেন গোয়াইনঘাটবাসী ৷

গত ২৬ মার্চ আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে প্রথমে ৫০ হেক্টর এবং পরবর্তীতে ৫০০ হেক্টর বোরো ধান তলিয়ে যায়। আর অ-সময়ে এমন দফায় দফায় বন্যার কবলে পড়ে উপজেলাবাসীর মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত বন্যায় উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাব মতে এক হাজার হেক্টর বোরো ফসল নষ্ট হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় কৃষকদের হিসাব মতে দুই থেকে আড়াই হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল নষ্ট হয়েছে।

এদিকে ক্ষেতের পাকা ধান কাটার প্রায় শেষ মুহূর্তে  বৃষ্টি শুরু হয়। ধান মাড়াই ও ধান শুকানোর কাজ রয়েছে বেশিরভাগ কৃষকের। টানা পাঁচ  দিন ধরে ঘুর্নিঝরের প্রভাবে  থেমে থেমে হচ্ছে বৃষ্টি। বৃষ্টির কারণে ক্ষেতে কেটে রাখা ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছেনা। ভালো ফলন হয়েও ধান ঘরে তোলা নিয়ে দোষ চিন্তায় কৃষকরা। পারায় রাখা ধানে জ্বালা দেওয়া শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার কৃষক হাসান আলি দুইশত মোট ধান কেটে জমির আইলে সারিবদ্ধ ভাবে রেখেছিলেন। রাতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ধানেরমুট ভাসিয়ি নিয়েছে গেছে। সকালে খোঁজাখুঁজি করে ১০০ মুট ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান।

রুস্তমপুর ইউনিয়নের নেপাল দাস রাজ জানান,অতিবৃষ্টিতে গোরাগ্রামের হাওরে অধিকাংশ ফসলি জমি পানিতে থলিয়ে গেছে অনেক পরিবার পানি বন্দী। টুইটম্বুর পানিতে টালমাটাল গোয়াইনঘাট উপজেলা। বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিভিন্ন জায়গায় সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাঙ্গনের তাণ্ডব শুরু হয়েছে। বৃষ্টির কারণে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পানির চাপে উপজেলায় তলিয়ে যাচ্ছে কাঁচা আধাপাকা বোরো ধানের জমি।এ অবস্থায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এসব এলাকার কৃষক। পানি বাড়লে উঁচু ক্ষেতের বোরো ধান আরও ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা তাদের।

নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে পিয়াইন ডাউকি সারী গোয়াইন নদীর পানি আশঙ্কা জনক হারে বেড়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের উচুক্ষেতের বোরো ফসল তলিয়ে যাচ্ছে।স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, ঢলের পানি এভাবে বাড়তে থাকলে আগামী কালকের মধ্যে উপজেলায় বহু জমির ফসলই তলিয়ে যাবে। আশঙ্কাজনক হারে বীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বহু কাঁচা আধপাকা বোরো ধান জমি তলিয়ে যাবার দুশ্চিন্তায় ভুগছে কৃষকরা। 

গোয়াইনঘাটের সচেতন মহলের দাবী অভিলম্বে গোয়াইনঘাটকে বন্যা দুর্গত এলাকা ঘোষনা করে জরুরী বিত্তিতে ত্রাণ সামগ্রী বিতরনের ব্যাবস্থা করা ৷

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কামরুল হাসান সহ অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আহ্বান জানাচ্ছেন বন্যায় প্লাবিত গোয়াইনঘাটের নিজ নিজ গ্রামের, এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ এর মেম্বার, চেয়ারম্যান এবং উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রাখার অনুরোধ জানান।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র মতে উঁচু জমির এখনো ৪০ শতাংশ কৃষকের বোরো ধান কাটার বাকি রয়েছে।

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাটঃঃ

মে / ১৪ / ২০২২
০১:১০ অপরাহ্ন

আপডেট : মে / ১৬ / ২০২২
০৯:১৩ অপরাহ্ন

মফস্বল