মে / ১৬ / ২০২২ ০৯:০৫ অপরাহ্ন

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

জানুয়ারী / ১৭ / ২০২২
০৪:৪৪ অপরাহ্ন

আপডেট : মে / ১৬ / ২০২২
০৯:০৫ অপরাহ্ন

ইসি গঠনে আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন



46

Shares

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে আইন হচ্ছে।  ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আইনের খসড়ায় অনুসন্ধান (সার্চ) কমিটির মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। 

সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই আইনের খসড়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, 'প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২' এর খসড়া নীতিগত/চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

তিনি জানান, সিইসি ও কমিশনার নিয়োগের জন্য একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হবে।

অনুসন্ধান কমিটির বিষয়ে আইনে কী বলা হয়েছে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘অনুসন্ধান কমিটিতে এক নম্বরে থাকবেন প্রধান বিচারপতি মনোনীত সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি, তিনি কমিটির চেয়ারম্যান হবে। এরপর থাকবেন প্রধান বিচারপতি মনোনীত সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, কম্পট্রলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল, পিএসসির চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রপতি মনোনীত দু-জন বিশিষ্ট নাগরিক। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।’

সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন গঠনের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির। সংবিধানে এ বিষয়ে আইন করার কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু কোনো সরকারই আইন করেনি। এতদিন রাষ্ট্রপতি সরাসরি নির্বাচন কমিশন গঠন করে দিতেন। রাষ্ট্রপতি বিগত দুটি কমিশন গঠন করেছেন সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে সাচিবিক দায়িত্ব পালন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সংবিধানের ১১৮(১)-এ বিধান আছে, রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দিতে পারেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এই আইনটি নিয়ে আসা হয়েছে। খুব বেশি বড় আইন না এটি। এ জাতীয় আইন যেহেতু আমরা হ্যান্ডেল করে আসছি, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন আছে। মোটামুটি সেই অনুযায়ী এটা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ দিতে একটা অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হবে। অন্যান্য আইনে যেভাবে আছে ঠিক সেভাবেই। একটি অনুসন্ধান কমিটিও করা হবে, সেটাও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে। অনুসন্ধান কমিটি যোগ্য প্রার্থীদের নাম সুপারিশ করবে।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার কারা হতে পারবেন আর কারা হতে পারবেন না তা খসড়া আইনে উল্লেখ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘যোগ্যতার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। বয়স কমপক্ষে ৫০ বছর হতে হবে। কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি বা বিচার বিভাগীয় পদে কমপক্ষে ২০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তাহলে কেউ প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনার হতে পারবেন।’

‘খসড়া আইনে অযোগ্যতার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ‌‌‘আদালতের মাধ্যমে কেউ অপ্রকৃতিস্থ হিসেবে ঘোষিত হন, দেউলিয়া ঘোষণার পর দেউলিয়া অবস্থা থেকে মুক্ত না হলে, অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব অর্জন করেন বা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেন, নৈতিক স্খলন এবং সেক্ষেত্রে যদি ফৌজদারি অপরাধে কমপক্ষে দু-বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দণ্ডিত হলে, রাষ্ট্রীয় পদে থাকলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনার হতে পারবেন না।’

আগামী নির্বাচন কমিশন কী এই আইনের অধীনে হবে- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘যদি এর মধ্যে হয়ে যায় তাহলে হবে। আজকে অনুমোদন দেওয়া হলো, হয়তো কাল-পরশু দুদিন লাগবে আইন মন্ত্রণালয়ের। তারপর যদি উনারা সংসদে পাঠান, সংসদেও তো কয়েকদিন লাগবে। স্ট্যান্ডিং কমিটিতে যাবে, উনারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। যদি হয়তো হয়ে যাবে, অসুবিধা তো নেই। আমরা আশা করছি, আইনটি চূড়ান্ত করতে খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়। ছোট আইন।’

আইনের অধীনে বিস্তারিত উল্লেখ করে একটি বিধি করে দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, যাতে প্রক্রিয়াগত বিষয়ে বারবার আইন সংশোধন করতে না হয়। তিনি বলেন, ‘আরেকটা জিনিস হলো এর আগে যেসব নির্বাচন কমিশন হয়েছে সেগুলোকে হেফাজত দেওয়া হয়েছে এই আইনে। যেহেতু এর আগে আইন ছিল না, রাষ্ট্রপতি যেসব নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন, তা এই আইনের অধীনে করেছেন বলে ধরে সেগুলোকে হেফাজত করা হয়েছে।

আইন ভাঙলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের অপসারণ কীভাবে হবে- জানতে চাইলে খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, ‘আমার তো যতদূর মনে পড়ে, যেভাবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা অপসারণ হন, একই পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে। বাকিগুলো হয়তো বিধিতে উল্লেখ করে দেওয়া হবে।’

বৈঠকে আরও তিনটি আইনের খসড়ায় মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। আইনগুলো হচ্ছে- 'বাংলাদেশ গ্যাস, তেল ও খনিজসম্পদ করপোরেশন আইন, ২০২১', 'জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০২১' ও 'বৈষম্য বিরোধী আইন, ২০২২'। এর পাশাপাশি বৈঠকে মন্ত্রিসভা 'জাতীয় লবণনীতি, ২০২১'-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

জানুয়ারী / ১৭ / ২০২২
০৪:৪৪ অপরাহ্ন

আপডেট : মে / ১৬ / ২০২২
০৯:০৫ অপরাহ্ন

জাতীয়