অক্টোবর / ২৭ / ২০২১ ০৩:০০ অপরাহ্ন

শম্পা শিমু

এপ্রিল / ১৮ / ২০২১
০৩:৫২ পূর্বাহ্ন

আপডেট : অক্টোবর / ২৭ / ২০২১
০৩:০০ অপরাহ্ন

জীবন ও সময়



244

Shares

জীবনটা কতোই না বৈচিত্র্য তাই না, হাসি কান্নার শব্দে নিঃশব্দে কেবল সময়ই কালের সাক্ষী হয়ে থাকে। জীবন যৌবন খুঁজে পাওয়া যায় তখন, যখন হারিয়ে খুঁজি আমরা সেই অপরূপ সৌন্দর্য্যরে ক্ষণ। সুখের দোলায় আমরা হারিয়ে নিজেকে, ভুলে যাই পিছন ফিরে তাকাতে। সেই সময়ই তখন নীরবে নিভৃতেই কাঁদে জীবনের পরিবর্তনের ছোঁয়াতে। জীবন ও সময় দুটোই পরিবর্তনশীল। কিন্তু আমাদের মন তা মানতে নারাজ, সে একই বৃন্তে থাকতে, চলতে, নিজস্ব ভুবনে সাজতে ভালোবাসে। বলুন তো এটাও কি হয় কখনোই? জীবন জোয়ারে না ভাসলে আমরা কি করে বুঝবো, সময়টা কতই দামি আর কম দামি! কি করে বুঝবো আমরা, জীবনের পরিবর্তনের গতিধারা, যার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে জীবনের মূলমন্ত্র। জীবন বৈচিত্র্য তরঙ্গের ঢেউ। একেক ঢেউ একেক দোলা দিয়ে যায়, কোনো ঢেউ আমাদের একেবারে তীরে এসে দিয়ে যায়, আবার কোনো ঢেউ আমাদের, মধ্য নদীতে ছেড়ে দিয়ে হাবুডুবু খাওয়ায়, আবারও কোনো ঢেউ আমাদের তীরে এসে তরী ডুবিয়ে দিয়ে যায়। এই প্রত্যকটি ঢেউ আমাদের জীবনে একেকটা শিক্ষা দিয়ে যায়, আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে যায়, কোনটা আমাদের সুখের দোলা, কোনটা দুঃখের দোলা। আবারও কোনটা কখন করে আমাদের এক্কেবারে কূলহারা।

গতানুগতিক জীবন একই স্রোতের মোহনায় দোলায় থেকে যায়, সেখানে হয়তো আমরা শান্তির নিঃশ্বাস বলে মনে করি হায়! একই স্রোতের মোহনা, দেয় না আমাদের সমান সুখ, একগুঁয়েমি স্রোতে কখন হয়ে যায়, আমাদের মানুষদের মানসিক রোগ। সেখানে শুধুই নিজকে নিয়ে থাকা, খাদ্য-পানীয়ে শুধুই জীবন চলে না, জীবন চলতে হলে বাহারি তরঙ্গের ঢেউয়ের দোলা লাগাতে হয়। তাতেই আমরা বুঝবো, আসলেই কোন দোলায় লুকিয়ে আছে আমাদের সত্যিকারের মনের সুখ। একেক দোলা একেকটা সুখ-অসুখ দিয়ে যায়। সুখের দোলা সেটা সাময়িক হিসেবে জীবনে থেকে যায়, আর অসুখের দোলায় আমরা নিজেকে চিনতে বা জানতে পারি। প্রতিনিয়তই কে আমাদের সুখের অতিথি, আর কে আমাদের অসুখের বেলায় অরুচি।

খাদ্যের পুষ্টির জন্য আমরা যেমন যেসব খাবার খাই, তেমনি এসবকে যদি আমরা উপেক্ষা করি, তবে আমাদের সুন্দর সুস্বাস্থ্য হারাই। কিন্তু দুটোই আমাদের জীবনের জন্য অধিকতর জরুরি। এক স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে, যদি আমরা অরুচিতে জীবন রক্ষার্থে এসব খাবার খাই, এতে মনের আত্মতৃপ্তি থাকে না, থাকে না মনের স্বাধীনতা। তাই স্বাস্থ্যের কথা ভেবে আমরা মনের আত্মতৃপ্তিকে দেই বলিদান। আবার স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা না করে, যদি আমরা মনের আত্মতৃপ্তির কথা ভাবি, আর অরুচির বদলে রুচির চিন্তা করে, মনের মত খাবার খাই, এতেও আমরা দ্রুত অসুস্থ হয়ে যাই। কিন্তু এসব অসুস্থতা তবুও বিভিন্ন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে হয়তোবা আমরা সুস্থ হয়ে যেতে পারি কিন্তু সেই মনের অরুচির কারণে আমরা কখনও ই হয়তো বা সুস্থ হতে পারি না।

কারণ কি সেটার? কারণ সেটা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথায় বলা যায়Ñ মানুষ না খেয়েও কিছুদিন বেঁচে থাকতে পারে, কিন্তু মনের আত্মতৃপ্তির বা আনন্দের অভাবে মানুষ অকালেই মরে যায়। আরোও বলেছেন, জীবনটা কেঁদে না ভাসিয়ে, হাসিতে উড়িয়ে দাও... এতেই জীবনের আত্মতৃপ্তি বা স্বাচ্ছন্দ্য, যাতে লুকিয়ে থাকে হয়তো-বা জীবনের মূলমন্ত্র, জীবন খুঁজে পায় জীবনের ছন্দ। কারণ স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল হলেও, আত্মতৃপ্তির জন্য জীবনে অবশ্যই প্রয়োজন সমান মনের সুখ। তাই জীবন ও সময় প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয় প্রকৃতির নিয়মে, সেটায় আর যাই হোক, আমরা তাকে সুন্দর মনে গ্রহণ করলে, সেও আমাদেরকে তার মত করে সুন্দর মনে গ্রহণ করবে। মনের আত্মতৃপ্তির কোমল পরশ হয়েই অনাবিল আনন্দের প্রহর হয়ে থাকবে, সুখ দুখে পরম বন্ধু হয়ে ছায়ার মত পাশে থাকবে। রৌদ বৃষ্টি থেকে রক্ষা করে মায়াবী পরশ বুলিয়ে, হৃদয়ে পরম যতেœ স্হান দিবে। থেকে যাবে হৃদয় গহীনে পরম শুভাকাক্সক্ষী হিসেবে। আমাদেরকে আজীবন ভালো থাকার, সুস্থ থাকার সঠিক রাস্তা দেখিয়ে দিবে।

জীবন বৈচিত্র্যে আমাদেরকে তার মত করে সাজাতে, আর সময় উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে, আমাদেরকে আলোকিত নতুন সূর্যের মুখ দেখাতে সাহায্য করবে। তাই জীবন ও সময়কে তার মতই প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হতে দেওয়া উচিত, কারণ তারাই আমাদের প্রকৃত বন্ধু বা প্রিয় সখা... 

যারা শত আনন্দ বেদনায় ও কখনও ই আমাদেরকে ছেড়ে চলে যাবে না বরং পরম বন্ধু শুভাকাক্সক্ষী হয়ে আমাদেরকে নতুন পথে, আলোর দিশারী হয়ে পথ দেখাবে, আমাদের সুন্দর জীবন সাজাবে সাহায্য করবে। তাই সময় হয়ে থাকবে পরম বন্ধু আর জীবন আত্মতৃপ্তির পূর্ণতায়, সুখের দোলায় পার করবে, জগত সংসার বা ভবসিন্ধু।


শম্পা শিমু

এপ্রিল / ১৮ / ২০২১
০৩:৫২ পূর্বাহ্ন

আপডেট : অক্টোবর / ২৭ / ২০২১
০৩:০০ অপরাহ্ন

সাহিত্য