অগাস্ট / ১৪ / ২০২২ ০৬:২৪ অপরাহ্ন

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

অগাস্ট / ০৪ / ২০২২
০৭:২৫ অপরাহ্ন

আপডেট : অগাস্ট / ১৪ / ২০২২
০৬:২৪ অপরাহ্ন

ওসমানীনগর ট্র্যাজেডি: ঘটনায় নতুন মোড়, বাসায় ফিরেছেন মা-ছেলে



72

Shares

সিলেটের ওসমানীনগরে বাসা থেকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী পরিবারের ৫ সদস্যকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার ও পরে দুজনের মৃত্যু হয়। অপর তিনজনকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এখানে ৯দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল বুধবার (০৩ আগস্ট) সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন প্রবাসী মা ও ছেলে। বাসায় ফেরার পর পুলিশ তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে মেয়ে সামিরা ইসলামের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।

এদিকে প্রবাসী পরিবারের ৫ সদস্যকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার ও পরে দুজনের মৃত্যুর ঘটনা নতুন মোড় নেওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে- ওই বাসায় সেদিন রাতে চালিত জেনারেটরের ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেশি। তবে ফরেনসিক ও ক্যামিকেল রিপোর্ট আসার পরই চূড়ান্তভাবে ধোঁয়াশা কাটবে।

গত ২৫ জুলাই ওসমানীনগরের তাজপুর বাজারের মঙ্গলচন্ডি স্কুল রোডের বাসার একটি কক্ষ থেকে একই পরিবারের ৫ যুক্তরাজ্য প্রবাসীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাদের হাসপাতালে নেওয়ার পর দুজন মারা যান। মৃত দুজন হলেন- ওসমানীনগর উপজেলা দয়ামীর ইউনিয়নের ধিরারাই (খাতুপুর) গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম (৫০) এবং রফিকুলের ছেলে মাইকুল ইসলাম (১৬)।

ঘটনার পর সংজ্ঞাহীন অবস্থায় রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হুছনারা বেগম (৪৫), বড় ছেলে সাদিকুল ইসলাম (২৫) এবং মেয়ে সামিরা ইসলামকে (২০) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ দিনের মাথায় হুছনারা বেগম ও সাদিকুল ইসলাম সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেও সামিরা ইসলাম এখনও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। 

এ বিষয়ে ওসমানী হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আবদুল গাফ্ফার গতকাল বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, পরিবারের দুজন সুস্থ বাসায় ফিরে গেলেও সামিরা এখনও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় আইসিইউতে ভর্তি আছেন। একবারের জন্যও তাঁর জ্ঞান ফেরেনি এবং এখনও কিডনি ও লিভার আগের মতোই কাজ করছে না সামিরার।

রহস্য উদঘাটনের বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, গতকাল (বুধবার) আমরা আবারও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এসময় হুছনারা বেগম ও সাদিকুল ইসলামকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য থেকে অনেকটা বুঝা যাচ্ছে যে- ওই রাতে তাদের বাসায় যে জেনারেটর চলছিলো সেটি থেকে প্রচুর ধোঁয়া বের হচ্ছিলো। প্রথম জিজ্ঞাসাবাদের সময় এবং আজও হুছনারা আমাদের বলেছেন- ওই জেনারেটর যখনই চালু করা হতো তখন তার ছোট ছেলে (মারা যাওয়া) মাইকুলের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যেতো। ওই রাতেও জেনারেটরের প্রচুর ধোঁয়া বের হওয়ার ফলে নিঃশ্বাস নিতে না পেরে দমবন্ধ হয়ে প্রবাসীদের এমন অবস্থা হতে পারে। সে সম্ভাবনাই বেশি। তবে চূড়ান্তভাবে বলা যাবে বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট আসার পর।

তিনি বলেন, আমরা অধিকতর তদন্তের স্বার্থে জেনারেটরের কিছু ধোঁয়া সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ফায়ার সার্ভিসের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই পরীক্ষা, ময়না তদন্ত, ফরেনসিক ও খাবারের রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্টগুলো পেলে চূড়ান্তভাবে বলা যাবে।

ফরিদ উদ্দিন আরও বলেন, আমরা আজ যত সময় ওই বাসায় ছিলাম এর মধ্যে কিছু সময় জেনারেটর চালু ছিলো। এই কিছু সময়ের মধ্যে আমাদের মাঝে অস্বস্তিকর অবস্থা শুরু হয়। তাই আমাদের ধারণামতে- বিষয়টি জেনারেটরের বিষাক্ত ধোঁয়া থেকেই হতে পারে।

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

অগাস্ট / ০৪ / ২০২২
০৭:২৫ অপরাহ্ন

আপডেট : অগাস্ট / ১৪ / ২০২২
০৬:২৪ অপরাহ্ন

সিলেট