জুলাই / ২৯ / ২০২১ ০৯:১০ অপরাহ্ন

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

জুলাই / ১৭ / ২০২১
০৪:১৭ অপরাহ্ন

আপডেট : জুলাই / ২৯ / ২০২১
০৯:১০ অপরাহ্ন

অষ্টম বর্ষে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স



40

Shares

অষ্টম বর্ষে পদার্পণ করেছে বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। গত সাত বছরে এর বিমান বহরে ১৭টি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক গন্তব্য ও ১৪টি এয়ারক্রাফট যোগ হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারি বিস্তার লাভের কারণে সারাবিশ্বের আকাশপথের যোগাযোগ অনেকটা বন্ধ হয়ে আছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স অতিক্রম করেছে সাফল্যগাঁথা সাতটি বছর।

২০১৪ সালের ১৭ জুলাই ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স দু’টি ড্যাশ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে ঢাকা-যশোর রুটে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশন শিল্পে যাত্রা শুরু করে।
প্রথম এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সকল বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা করে স্বল্পতম সময়ে আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। অভ্যন্তরীণ রুট ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, যশোর, সৈয়দপুর, বরিশাল, রাজশাহীতে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ইউএস-বাংলা যাত্রা শুরুর দু’বছরের মধ্যে ২০১৬ সালের ১৫ মে ঢাকা-কাঠমান্ডু রুটে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রা শুরু করে। ইউএস-বাংলার আন্তর্জাতিক রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে কলকাতা, চেন্নাই, মাস্কাট, দোহা, দুবাই, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক ও গুয়াংজু। নিকট ভবিষ্যতে আবুধাবি, জেদ্দা, রিয়াদ, দাম্মাম, কলম্বো, মালে, দিল্লি রুটে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
বর্তমানে ইউএস-বাংলার বিমান বহরে মোট ১৪টি এয়ারক্রাফট রয়েছে, যার মধ্যে ১৬৪ আসনের চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০, ৭২ আসনের সাতটি এটিআর ৭২-৬০০ এবং ৭৬ আসনের তিনটি ড্যাশ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্রাফট আছে। যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯৮ দশমিক ৭ শতাংশ অন-টাইম ফ্লাইট পরিচালনার রেকর্ড রয়েছে ইউএস-বাংলার।
যাত্রীসেবায় অনন্য নজির স্থাপন করায় ইউএস-বাংলা দেশীয় এয়ারলাইন্স হিসেবে যাত্রীদের কাছে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। দেশে-বিদেশে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রযেছেন ইউএস-বাংলার। যা দেশের বেকার সমস্যা সমাধানেও কাজ করে যাচ্ছে। এ ছাড়া নিয়মিত ট্যাক্স-সারচার্জ পরিশোধ করে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করে চলেছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশের অর্থনীতিকে করছে আরও সুদৃঢ়।
ইউএস-বাংলার টিকিট সংগ্রহ করার জন্য রয়েছে ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপস বুকিং সুবিধা। রয়েছে হোম ডেলিভারি সুবিধাও। দেশে এবং দেশের বাইরে নিজস্ব ৪০টির অধিক সেলস অফিস রয়েছে। ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লাইয়ারদের জন্য রয়েছে স্কাইস্টার। যার মাধ্যমে শুধু টিকিটেই সুবিধা পাবে না বরং যাত্রীরা বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের পণ্য ক্রয়ে ডিসকাউন্ট সুবিধাও পেয়ে থাকে।
স্বাধীনতার পর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স-ই একমাত্র দেশীয় বিমান সংস্থা যা চীনের কোনো গন্তব্যে বা ভারতের চেন্নায়ে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যাত্রীদের বেশ কয়েকটি স্পেশাল সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা, যা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে অ্যাভিয়েশন শিল্পে। উল্লেখযোগ্য সার্ভিসগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণের পর ১৫ মিনিটে ল্যাগেজ ডেলিভারি, সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য ২০ শতাংশ, সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা ও গলফারদের জন্য ১০ শতাংশ মূল্যছাড়সহ আরও নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স শুধু যাত্রীই পরিবহন করে না, একই সঙ্গে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক গন্তব্যে কার্গো ফ্লাইট চলাচল করে থাকে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স দেশের বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খেলাধুলার উন্নয়নে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে আছে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমরা যে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে প্রস্তুত। বর্তমান বিশ্বে যাত্রীদের সঠিক সেবা প্রদান করার জন্য ব্র্যান্ডনিউ এয়ারক্রাফটের কোনো বিকল্প নেই। ইউএস-বাংলা যাত্রীদের আরামদায়ক সেবাকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এয়ারক্রাফট বহরে যুক্ত করে চলেছে। ইউএস-বাংলা-ই একমাত্র দেশীয় বিমান সংস্থা, যারা অভ্যন্তরীণ রুটে ব্র্যান্ডনিউ এয়ারক্রাফট দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ইনশাল্লাহ নিকট ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক রুটেও ব্র্যান্ডনিউ এয়ারক্রাফট বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছি। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে ইউএস-বাংলা পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।’
এ ছাড়া অষ্টম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে তিনি বলেন, ‘ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সাফল্যেভরা সাত বছরে যে সকল সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্ট, ট্যুর অপারেটর, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন করপোরেট অফিস, বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন মিডিয়ার কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ, সর্বোপরি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত যেসকল কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

জুলাই / ১৭ / ২০২১
০৪:১৭ অপরাহ্ন

আপডেট : জুলাই / ২৯ / ২০২১
০৯:১০ অপরাহ্ন

অর্থনীতি