জুন / ১৭ / ২০২১ ১০:৫২ পূর্বাহ্ন

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

মে / ০৬ / ২০২১
০৩:০২ অপরাহ্ন

আপডেট : জুন / ১৭ / ২০২১
১০:৫২ পূর্বাহ্ন

সিলেট মেরিন একাডেমির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নির্মাণ ব্যয় ১০৬ কোটি টাকা



67

Shares

সিলেট মেরিন একাডেমিসহ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থার ‘নবসৃষ্ট অবকাঠামো ও জলযান’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (৬ মে) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সচিবালয়ের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় যুক্ত হয়ে প্রায় ১শ’ ৬ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত এই মেরিন একাডেমির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গণভবন থেকে সিলেট নগরীর উপকণ্ঠে নব-নির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের নিকটবর্তী চেঙ্গেরখাল নদীর তীরবর্তী এলাকায় নির্মিতি আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত সিলেট মেরিন একাডেমির প্রকল্প বিবরণীতে জানা যায়, ২০১২ সালে বর্তমান আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের বরিশাল, সিলেট, রংপর ও পাবনায় ৪টি মেরিন একাডেমি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। সিলেট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রচেষ্টায় তাঁর নির্বাচনী এলাকা সিলেট সদর উপজেলার হাটখলা ইউনিয়নে বাদাঘাট এলাকার স্বচ্ছ জলের চেঙ্গেরখাল নদীর পাড়ে সিলেটের প্রথম জলপথের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিলেট মেরিন একাডেমী স্থাপনের জন্য ২০১২ সালের জুন মাসে ১০ একর ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালে এর কাজের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে গণপূর্ত বিভাগের তত্বাবধানে ১০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট মেরিন একাডেমীর অবকাঠামো নির্মাণ কাজ পুরোদমে শুরু হয় ২০১৭ সালে। এর আগে এ প্রকল্পের মাটি ভরাটসহ অন্যান্য কাজ শেষ করা হয়। উক্ত প্রকল্পের আওতায় ছোট বড় ২০টি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে সুরম্য একাডেমিক ভবন, ছাত্রাবাস, ৩টি আবাসিক ভবন, জিমনেসিয়াম, দৃষ্টিনন্দন মসজিদ, প্যারেড গ্রাউন্ড ও সুইমিংপুল।

সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেটে সদর উপজেলার চেঙ্গের খাল নদীর এক পাশে গড়ে উঠেছে সিলেটের নতুন কেন্দ্রীয় কারাগার, মধ্যখানে চেঙ্গেরখাল নদী, অপর পাশে নদীর কূল ঘেষে গড়ে উঠেছে সুসজ্জিত ক্যাম্পাস মেরিন একাডেমী। এ প্রকল্পের দায়িত্বে নিয়োজিত সিলেট গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মাহিদুর রহমান জানান, প্রকল্পের ৯৯ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। শুধুমাত্র গ্যাস সংযোগ বাকি রয়েছে, সেটাও দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ স্থাপন হবে বলে তিনি আশাবাদী। তবে প্রকল্পের প্রাক্ষলিত ব্যায় ১০৭ কোটি টাকা থাকলেও গণপূর্ত বিভাগ নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে এক কোটি টাকা কমে প্রকল্পের কাজ শেষ করছে বলে তিনি জানান।

এদিকে, মেরিন একাডেমীর প্রথম ব্যাচে ৫০ ক্যাডেট ভর্তি করা হয়েছে। যার মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং ও নটিক্যাল শাখায় ২৫ জন করে শিক্ষার্থী রয়েছেন। বর্তমানে তারা চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী জুন অথবা জুলাইয়ে সিলেট ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করে সিলেট মেরিন একাডেমীর কমান্ডেন্ট ক্যাপ্টেন কাজী এবিএম শামীম। তিনি বলেন, ক্যাম্পাস উদ্বোধনের পর চলতি বছরের জুন জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পসে নিয়ে আসা যাবে বলে আশা করছেন তারা।

এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সিলেট মেরিন একাডেমির কাজ সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন। তিনি এ প্রকল্প তাঁর নির্বাচনী এলাকা সিলেট সদর উপজেলায় বাস্তবায়নের জন্য বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। ড. এ কে আব্দুল মোমেন এ প্রকল্প বাস্তবায়নে একই এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য ও সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী তাঁর সহোদর আবুল মাল আবদুল মুহিতের অবদানকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এম এ মুহিতের একটি স্বপ্নের প্রকল্প ছিলো,আজ তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছে। এর মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন বহরে আরেক নতুন প্রতিষ্ঠান যুক্ত হলো। এতে সিলেট সমৃদ্ধির পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। মন্ত্রী এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যারা বিভিন্ন ভাবে সংশ্লিষ্ট থেকে সাহায্য ও সহযোগিতা করেছেন তাদের সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

জানা যায়, অবকাঠামো ও জলযানের মধ্যে রয়েছে বিআইডব্লিউটিএ’র ২০টি কাটার সাকশন ড্রেজার, ৮৩টি ড্রেজার সহায়ক জলযান, প্রশিক্ষণ জাহাজ ‘টিএস ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী (দাদা ভাই)’, বিশেষ পরিদর্শন জাহাজ ‘পরিদর্শী’, নবনির্মিত নারায়ণগঞ্জ ড্রেজার বেইজ; বিআইডব্লিউটিসির দুটি উপকূলীয় যাত্রীবাহী জাহাজ ‘এমভি তাজউদ্দীন আহমদ’ ও ‘এমভি আইভি রহমান’, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘পায়রা আবাসন’ পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং পাবনা, বরিশাল, রংপুর ও সিলেট মেরিন একাডেমি।

এসব অবকাঠামো এবং জলযান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে নৌ-সেক্টরের উন্নয়নে নতুন মাত্রা সংযোজন করবে। মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশে তৈরি ২০টি কাটার সাকশন ড্রেজারসহ শতাধিক নৌযান একসঙ্গে উদ্বোধন বাংলাদেশের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ‘নবসৃষ্ট অবকাঠামো ও জলযান’ নদীর নাব্যতা রক্ষা, নৌপথ উন্নয়ন, উপকূলীয় এলাকার যাত্রী পরিবহন ও দক্ষ নৌকর্মী গঠনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন ও আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খননে সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে ২০টি ড্রেজার এবং ৮৩টি ড্রেজার সহায়ক জলযান প্রস্তুত করা হয়েছে। নৌপথ খনন ও নাব্যতা বজায় রাখার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর ২০১৫ সাল পর্যন্ত ১৮টি ড্রেজার সংগ্রহ করা হয়। বর্তমানে ২০টি ড্রেজার বিআইডব্লিউটিএর বহরে যুক্ত হয়ে মোট ৪৫টি ড্রেজারের শক্তিশালী ইউনিট সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বর্তমান মেয়াদে ৩৫টি ড্রেজার সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসির উপকূলীয় যাত্রীবাহী জাহাজ ও সি-ট্রাক বহরকে দক্ষ ও যুগোপযোগী করতে নবনির্মিত অত্যাধুনিক যাত্রীবাহী জাহাজ ‘এমভি তাজউদ্দীন আহমদ’ ও ‘এমভি আইভি রহমান’ নির্মাণ করা হয়েছে। জাহাজ দুটি কুমিরা-গুপ্তছড়া এবং চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ-হাতিয়া-বরিশাল রুটে চলাচল করবে। এ জাহাজ দুটির মাধ্যমে বছরে ৬ লাখ ৩০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে।


জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

মে / ০৬ / ২০২১
০৩:০২ অপরাহ্ন

আপডেট : জুন / ১৭ / ২০২১
১০:৫২ পূর্বাহ্ন

জাতীয়