মে / ১৬ / ২০২২ ০৯:৫১ অপরাহ্ন

ডক্টর মকবুল হোসেন লেচু মিয়াকে সিলেটের মানুষ মনে রাখবে অনেক দিন

আবদুল কাদের তাপাদার 

দেশের আলোচিত ব্যবসায়ী ও গোলাপগঞ্জ -বিয়ানীবাজার আসন থেকে নির্বাচিত সাবেক দুই বারের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য, এলাকায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্হাপনকারী দানশীল ও সমাজসেবক ড: সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়া আর নেই। আজ রাত পোণে ১০ টায় তিনি ঢাকায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহী ওয়া ইন্না ইলাইহী রাজিউন। তাঁর ইন্তেকালে এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ ছড়িয়ে পড়েছে। 

সিভিল প্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি চাকুরিত যোগ দেন মকবুল হোসেন লেচু মিয়া। সর্বশেষ চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

পরে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। ১৯৮৬ সালে প্রথমবারের মতো সংসদীয় আসনের নির্বাচনে অবতীর্ণ হন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। বিজয়ী হন তিনি। 

ঢাকায় তার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের নাম বিএনপি ঘরানার রাজনীতিতে নিজেকে বরাবরই সংশ্রবের চেষ্টা করলেও কোনো বারই বিএনপির টিকেট পাননি। শেষবার ২০০১ সালেও স্বতন্ত্র হিসেবে গোলাপগঞ্জ -বিয়ানীবাজার আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। এক সময়ে বিএনপির রাজনীতিতে সিলেট জেলা সভাপতি ইলিয়াস আলীর সাথে  তার মনোমালিন্য দেখা দেয় যা নিয়ে সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হয়।

বাংলাদেশে মিলিটারি শাসন বা সামরিক শাসন নিয়ে  তিনি ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। এ সম্পর্কে তাঁর কয়েকটি গ্রন্হও প্রকাশিত হয়েছে। পাকিস্তান আমলে 

তিনি পাকিস্তান অবজারভারে নিয়মিত কলাম লিখতেন। অবজারভারে তার লেখার পুরনো কপিগুলো একদিন আমাকে  ও গোলাপগঞ্জের সাংবাদিক আবদুল আহাদকে দেখিয়ে ছিলেন তিনি। পরবর্তীতেও তিনি সংবাদপত্রে লেখালেখি করেছেন। 

সিলেটের শীর্ষ স্হানীয় সাংবাদিক,  রাজনৈতিক নেতা ও গণমাধ্যমের সাথে  বরাবরই সম্পর্ক ছিলো তাঁর। দেশের রাজনীতি নিয়ে তাঁর কাছে  অসাধারণ একটা বিশ্লেষণের আভাস পেতাম বরাবরই। 

আমার সাথে টেলিফোনে তাঁর আলাপচারিতা ছিলো নিত্য নৈমিত্তিক। সিলেটের রাজনীতির  হাল হকিকত জেনে নিতে চেষ্টা করতেন। তারপর তাঁর নিজের মতো করে একটা বিশ্লেষণ করতেন।  বিএনপি নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সাথে তাঁর অন্তরঙ্গতা ছিল বলে সবসময়ই দাবি করতেন। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে বরাবরই তার তীব্র আশাবাদ ও বিশ্লেষণ থাকতো নিজের মতো। সিলেটের ঘনিষ্ঠ মানুষজনের সাথে  ' "ভাইছাব ভালা আছোইন নি" বলে টেলিফোনে সম্ভোধন করে কথা শুরু 

করতেন। ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর খালেদা জিয়া তাঁকে প্রতিমন্ত্রী করতে চেয়েছিলেন এবং আনুষ্ঠানিক বিএনপিতে যোগদানের একটা আয়োজন হয়েছিল। কিন্তু এম,সাইফুর রহমান সাহেব লেচু মিয়াকে মেনে নেননি বলে শোনা যায়। 

নিজের এলাকা গোলাপগঞ্জ বিয়ানীবাজারে তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল অনেক।  গরীব দুস্থ এতিম অসহায় মানুষের খোঁজ খবর নিতেন সবসময়ই। তাঁদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করে যেতেন অনবরত। 

এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে তিনি অসামান্য ভূমিকা পালন করে গেছেন।নিজের নামে বেনামে স্কুল কলেজ গড়ে তুলেছেন। নারী শিক্ষার প্রসারে ব্রতী হয়েছেন। গোলাপগঞ্জ বিয়ানীবাজারের সমাজ ও রাজনীতিতে মকবুল হোসেন লেচু মিয়ার নাম মানুষ মনে রাখবে অনেক দিন। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের বাসিন্দা বানিয়ে যেনো নেয় আমি এই দোয়া করি।